বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ঈদের পর বড় কর্মসূচি জামায়াত–এনসিপির

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
জামায়াত ও এনসিপির লোগো
expand
জামায়াত ও এনসিপির লোগো

ঈদুল ফিতরের পর রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, গণভোটের ফল কার্যকর করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে যেমন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, তেমনি সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও প্রথম অধিবেশন ডাকার বিধান রয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। ফলে সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সরকারপক্ষের যুক্তি-সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের বিধান না থাকায় এটি গঠনের আগে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও আইনি জটিলতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরছেন।

তবে জামায়াত ও এনসিপির দাবি, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্যই ছিল দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা। তাদের মতে, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে।

সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানান, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

জোটের নেতাদের অভিযোগ, একই দিনে দুই ধরনের ভোট হলেও কেবল জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়েছে, সংস্কার পরিষদের নয়। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং গণভোটে অংশ নেওয়া জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

এনসিপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, সরকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আন্দোলন, আলোচনা থেকে শুরু করে আইনি পদক্ষেপ—সব ধরনের পথই খোলা রাখা হবে। ঈদের পরেই বড় কর্মসূচি ঘোষণা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নির্ধারিত সময়ে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতির পক্ষে অধিবেশন ডাকা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কার প্রশ্নে পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চলবে।

সংকট দ্রুত সমাধান না হলে রাজপথে নামার আভাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে সমাধান না এলে জনগণের দাবির পক্ষে আন্দোলনই শেষ পথ হয়ে উঠতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন