

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভূমিধস বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে নব নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন গঠিত এ মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫০ সদস্যের মধ্যে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার আটজনসহ অভিজ্ঞ নয়জনের সঙ্গে ৪০টি নতুন মুখ নিয়ে নিজের মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করান।
এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জন নতুন, আর প্রতিমন্ত্রীদের সবাই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় এসেছেন। মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবে রয়েছেন পূর্ণ মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অভিজ্ঞতা আছে ৯ জনের
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আটজনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পাশে রেখেছেন। এছাড়া আরও একজনের মন্ত্রীত্ব করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অষ্টম সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী ও পাটমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
দলটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এরশাদ ও খালেদা জিয়া সরকারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নিতাই রায় চৌধুরী এরশাদ আমলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং পরে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০০১-২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং নকল প্রতিরোধে তার ভূমিকা প্রশংসিত। আসাদুল হাবিব দুলু যোগাযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উপমন্ত্রী ছিলেন।
পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে নতুন মুখ ১৭ এ মন্ত্রিসভায় তারেক রহমানসহ পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে ১৭ জন নতুন। এর মধ্যে রয়েছেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী সবাই নতুন ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় এসেছেন। তারা হলেন, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম রয়েছেন।
এছাড়া জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরও প্রথমবারের মতো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন

