শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘স্লো লিভিং’ ব্যস্ত জীবনে ভারসাম্য আনবেন যেভাবে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আজকালকার ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়শই সময়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতেই ভুলে যাই। সবসময় একটা তাড়া, একটা ক্লান্তি! কিন্তু আপনি কি জানেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ব্যস্ততার বিপরীতে "স্লো লিভিং" বা ধীরে চলার জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে একটি নতুন ট্রেন্ড। যা শুধু একটি লাইফস্টাইল নয়, বরং আপনার ব্যস্ত জীবনে ভারসাম্য আর মানসিক শান্তি এনে দেওয়ার এক দারুণ পথ।

স্লো লিভিং এর অর্থ হলো- জীবনের গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়ে প্রতিটি মুহূর্তকে মন থেকে উপভোগ করা। ফাস্ট ফুড, ফাস্ট ট্র্যাভেল কিংবা একসঙ্গে হাজারটা কাজের মাল্টিটাস্কিং আমাদের জীবনকে অনেক বেশি ক্লান্ত করে তোলে। আর ঠিক সেখানেই স্লো লিভিং আমাদের শেখায়- যা-ই করবেন, প্রয়োজনে কম করুন, কিন্তু মন দিয়ে করুন।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে স্লো লিভিং?

অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ডিজিটাল ওভারলোডের কারণে মানুষের মানসিক ক্লান্তি দিন দিন বাড়ছে। আজকাল প্রচুর মানুষ একটু মানসিক শান্তি এবং নিজের সঙ্গে কিছুটা কোয়ালিটি টাইম কাটানোর সুযোগ খুঁজছে। যত দিন যাচ্ছে, মানুষের মধ্যে মিনিমালিজম ও টেকসই জীবনযাত্রার ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে। করোনা মহামারির সময় ঘরোয়া জীবন মানুষকে প্রথম শিখিয়েছিল- ধীরে চলার সৌন্দর্য আসলে কেমন হতে পারে।

স্লো লিভিং-এর মানসিক উপকারিতা-

যখন কোনো ব্যক্তি জীবনে ধীরে চলবে, তখন তার মন ও শরীর দুটোই রিল্যাক্সড হওয়ার সুযোগ পায়। একসঙ্গে হাজারটা কাজ না করলে, একটি নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দেওয়া অনেক সহজ হয়। অতিরিক্ত চাপমুক্ত থাকার ফলে জীবনের যেকোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়। নিজের চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে একটি গভীর সংযোগ তৈরি হয়। নিজের গতি একটু কমালে পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য সময় বের করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

কীভাবে শুরু করবেন স্লো লিভিং?

. প্রতিদিন সকালবেলায় কিছুটা সময় একদম নীরবতায় কাটান।

. প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় 'ডিজিটাল ডিটক্স' করুন, অর্থাৎ ফোন-ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন।

. মিনিমালিজম অনুসরণ করুন, জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস ও জটলা কমিয়ে ফেলুন।

. রোজ হাঁটার অভ্যাস করুন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

. খাবার খাওয়ার সময় ভুলেও ফোন হাতে নেবেন না। প্রতিটি খাবারের স্বাদ মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।

. আর সবশেষে, নিজের পছন্দের শখের কাজ- যেমন আঁকা, গান শোনা কিংবা বাগান পরিচর্চা করার মতো কাজে বেশি করে জড়িয়ে যান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন