শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকসই কৃষির অগ্রদূত মতিন সৈকত

শেখ ফরিদ উদ্দিন
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
expand
টেকসই কৃষির অগ্রদূত মতিন সৈকত

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ, কৃষি খাত এবং পরিবেশ আন্দোলনে মতিন সৈকত যে অবদান রেখে চলেছেন, তাকে অনেকেই সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। মাঠপর্যায়ের কাজ, কৃষকের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ভাবনার বিস্তারে তার ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে যে জীবন কর্মময় হয়ে ওঠে, সে জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়, সমাজের জন্য এক আলোকবর্তিকা।’

মতিন সৈকতের পরিবেশ ও কৃষি আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে। আজ তা এক বৃহত্তর পরিসরে দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। তিনি কেবল তত্ত্বীয় কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, সরাসরি মাঠপর্যায়ে মানুষের সাথে মিশে গেছেন। কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করাই তার কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জনাব মতিন সৈকত পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তার প্রধান কাজের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন ও নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন: রাসায়নিক মুক্ত ও মানবদেহের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তিনি কৃষকদের মাঝে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। ২. পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ: আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে মাটির উর্বরতা রক্ষা করে অধিক ফলন সম্ভব, তা তিনি মাঠপর্যায়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ৩. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলাধার রক্ষা: প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জলাধার ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। ৪. প্লাবনভূমিতে মৎস্যচাষ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি: গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করতে প্লাবনভূমিতে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মৎস্যচাষের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে তিনি প্রতিনিয়ত ভূমিকা রাখছেন।

তার এই দীর্ঘকালীন নিঃস্বার্থ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • এআইপি সম্মাননা
  • জাতীয় কৃষি পদক
  • জাতীয় পরিবেশ পদক

তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় গৌরবময় ও অনন্য স্বীকৃতি হলো দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের গভীর আস্থা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সম্মান।

মতিন সৈকতের চার দশকের কর্মভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি গ্রন্থ প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রকাশনাটি শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কর্মজীবনের দলিলই নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, প্রেরণা ও গবেষণার এক মূল্যবান উপকরণ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে পরিবেশ রক্ষা, মানবকল্যাণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, কৃষির আধুনিকায়ন ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক বাস্তব পাঠ হিসেবে এই গ্রন্থটি সমাদৃত হবে।

মতিন সৈকতের মতো দূরদর্শী ও নিঃস্বার্থ পরিবেশপ্রেমী আমাদের টেকসই উন্নয়ন-চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তার এই মহৎ কর্মকাণ্ড ও জীবনাদর্শ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বেঁচে থাকা যায়। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত মানবকল্যাণমূলক কর্মযজ্ঞ আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে। মতিন সৈকত বাংলাদেশের কৃষি ও পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে চিরকাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন