শুক্রবার
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের প্রতিবেদন

ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

রাত পোহালেই শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে বিএনপির সমর্থন জামায়াতের তুলনায় বেশি। যদিও বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী এ ব্যবধানের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। যেমন ন্যারেটিভ/আইআইএলডির জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১.১ শতাংশ, আবার ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১.৮ পয়েন্টে এগিয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবধানের এই ভিন্নতা সমীক্ষার পদ্ধতির কারণে। ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপ ২৯৫টি আসনের ২২,১৭৪ জন উত্তরদাতার ওপর করা হয়েছিল, যা নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে ইনোভিশন পূর্বে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫,১৪৭ জনের সঙ্গে পুনঃযোগাযোগ করেছে, যা সময়ের সঙ্গে জনমতের পরিবর্তন বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য।

অতীতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট ভোটের ৩৫–৪৮ শতাংশ পেয়েছে। তবে এবার নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ৪ কোটি ভোটার নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ/বিপিওএস সমীক্ষা অনুযায়ী, এ ভোটারের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। একইসঙ্গে জামায়াতও এই ভোটব্যাংকের দ্বিতীয় সুবিধাভোগী।

বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) ব্যবস্থা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী বিজয়ী হন, ফলে কেন্দ্রভিত্তিক সমর্থন বেশি থাকলে দলকে সুবিধা দেয়। ন্যারেটিভ জরিপ অনুযায়ী, জামায়াত সামান্য ভোটে পিছিয়েও আসনসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য লাভ করতে পারে।

ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয় ১) বিদ্রোহী প্রার্থী: বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ১৫–৩০টি আসনে বিএনপির ক্ষতি করতে পারে।

২) তরুণ ভোটার: এ নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেবেন এমন প্রজন্মের ৩৭.৪% ভোট জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে।

৩) অনির্ধারিত ভোট: সমীক্ষায় ১৫–৩৫% ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। এ ভোটারদের সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলের মূল অনিশ্চয়তা নির্ধারণ করবে।

সম্ভাব্য আসন বণ্টন (৩০০ আসন):

  • বিএনপি ও জোট: ১৫৫–২১৫
  • জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫–১১০
  • জাতীয় পার্টি: ৫–১৮
  • ইসলামী আন্দোলন: ২–১০
  • অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০–৩৫

সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা:

  • বিএনপি ও জোট: ১৮৫ আসন
  • জামায়াত ও এনসিপি: ৮০ আসন
  • জাতীয় পার্টি: ১০ আসন
  • ইসলামী আন্দোলন: ৫ আসন
  • অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ২০ আস

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের মূল প্রশ্ন বিজয়ী কে হবে তা নয়, বরং বিজয়ের ব্যবধান কত হবে। অনির্ধারিত ভোটারদের সিদ্ধান্ত, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের ভোট উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলের মূল নিয়ামক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮ লাখ ভোটার। সমীক্ষা অনুযায়ী ভোটের ধারা বিএনপির দিকে ভারী, তবে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X