

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা গেছে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি বিভাগীয় শহরে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আসন সীমিত হওয়ায় বাসে উঠতে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা শহরে মোট চারটি বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস ছাড়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগ থেকেই অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন কেন্দ্রীয় পরিবহন শেডে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পরিবহন শেড, গোলচত্বর ও শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী বাসের সামনে মাটিতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কেউ মোবাইলে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ চাদর বিছিয়ে অপেক্ষা করছেন। ঈদের আনন্দে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস থাকলেও বাসের আসন পাওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠাও ছিল চোখেমুখে স্পষ্ট।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগে না এলে কাঙ্ক্ষিত আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অনেকে গভীর রাত থেকেই এসে অবস্থান নিয়েছেন।
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান ঢাকায় বাড়ি ফিরবেন। তিনি বলেন, “অনেক দিন পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব। সারা সেমিস্টার পড়াশোনা আর ব্যস্ততার মধ্যে কাটে। এখন শুধু মনে হচ্ছে, কখন বাসে উঠব আর কখন বাড়ি পৌঁছাব। একটু কষ্ট হলেও পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দটাই বড়।”
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মোমিনুল ইসলাম বলেন, “বাসের সিট পাওয়ার জন্য বিকেল থেকেই এসে বসে আছি। সবাই এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যেই আছে। কিন্তু এই কষ্টটা আনন্দের, কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা বাবা-মায়ের কাছেই ফিরছি। ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।”
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, পরিবারের টানেই সব অপেক্ষা আর ভোগান্তি সহনীয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আনন্দ যেন ক্লান্তিকেও হার মানায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমিত সংখ্যক বাস থাকলেও আমরা চেষ্টা করছি যেন সুষ্ঠুভাবে সবাই যাত্রা করতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”