

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অর্থ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দেন। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হয় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার ফাইনাল বা যেকোনো পরীক্ষা চলাকালীন ব্যাগ সামনে রাখলে সেখান থেকে প্রায়ই টাকা চুরির ঘটনা শোনা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ তারিখে বিভাগ থেকে বিভাগের বনভোজনে যাওয়ার পথে প্রায় ৮০০০ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, সেখানে বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে ৬০০০ টাকা, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০০ টাকা এবং বিভাগের সেকশন অফিসারের স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা চুরি হয়। বিভাগীয় প্রধানের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর উক্ত শিক্ষিকার ওপর সন্দেহ করা হয় এবং রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করা হলে উক্ত শিক্ষিকার কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়।
আন্দোলনকারী স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তকিব হাসান বলেন, অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সেটি প্রক্টরের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আবার উপাচার্যের কাছে গেলে বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতা ও তালবাহানার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছি। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।
বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, আমাদের বিভাগ বরাবর অ্যাপ্লিকেশন এসেছে ৮ তারিখ। শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল উপাচার্যের কাছে, সেখানে প্রক্টর সহ অনেকে ছিলেন সেখান থেকে বলা হয়েছে বিভাগের মাধ্যমে আসবে, প্রথমে বিভাগ পরে ডিন এইভাবে প্রক্রিয়াগত ভাবে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানাতে এসেছে বিভাগ কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন আমি জানিয়েছি যে আমার জানা মতে এইখানে বিভাগের এখতিয়ার নেই।
এ নিয়ে ফোকলোর বিভাগের অভিযুক্ত সেই শিক্ষিকা বলেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে ট্রমাটাইজড। আমার ক্লাস নেওয়ার ছিলো আজকে, নিতে পারছি না। আমি একটু স্টেবল হয়ে নিজেই তোমাদের ডেকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো।
মন্তব্য করুন

