

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীতে মশার উপদ্রব এখন নগরবাসীর ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছে। দিন-রাত সবসময়ই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মশার ঘনত্ব বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির মশা।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগ। গবেষকদের মতে, ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা বিশ্বমান অনুযায়ী ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। অথচ বাংলাদেশে ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৮৫০–এ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, আবাসিক পাড়ায় দিনের বেলাতেও ঘরে-বাইরে মশার উৎপাত বেড়েছে। ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, ডোবা-নালা ও বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মিলছে মশার লার্ভা। শীত শেষ হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ড্রেন ও নর্দমায় জমে থাকা পানির ওপর ভাসমান জলজ উদ্ভিদ পচে গিয়ে পানিকে ঘন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ করে তুলছে। এতে কিউলেক্স মশার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য তৈরি হচ্ছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা বেরিয়ে আসছে।
তার মতে, শুধু ফগিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ডোবা-নালা পরিষ্কার করে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করতে হবে। প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেশি হলেও বর্ষা সামনে রেখে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এপ্রিল মাস থেকেই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
এদিকে দায়িত্ব নিয়েই ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ড্রেন-নালা পরিষ্কার, লার্ভা ধ্বংস, এলাকাভিত্তিক ফগিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই কিউলেক্স মশার উপদ্রব কমে আসবে বলে তারা আশাবাদী।
মন্তব্য করুন
