সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে অপরিবর্তিত, স্বস্তিতে ভোক্তা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৪ এএম
প্রতীকী ছবি
expand
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে আপাতত দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রায় হঠাৎ খরচ বৃদ্ধি না হওয়ার সুবিধা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৭ মার্চ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনা পর্যায়েই থামিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি না করা এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

এরপর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকিতে জোর দেয়, যার ফলে তেলের দাম বাড়েনি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বের প্রায় ৯৫টিরও বেশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে পরিবহন ভাড়া, উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপণ্যদ্রব্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। তবে বাংলাদেশে আপাতত দাম স্থিতিশীল থাকায় দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকায় পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়েনি। ফলে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েনি।

সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব বাজারের প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর পড়ে। তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আপাতত স্বস্তিতে আছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার ফলে বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই সরকার জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সরকারের প্রস্তুতির কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের কোনো অভাব নেই।’

এছাড়া দেশজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে আগে যে রেশনিং পদ্ধতি চালু ছিল তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে পারবেন। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাতারের বাইরে বিকল্প উৎস নিয়েও কাজ করছে সরকার।

সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান,‘আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে আর কোনো রেশনিং থাকছে না। সবাই এখন চাহিদা অনুযায়ী তেল কিনতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য আমদানি বাড়াতে বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন হতে পারে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা, আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটর ও ভোক্তা সাধারণের সচেতনতা মিলিয়েই বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন