শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ দিনেই এলো ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ডলার
expand
ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ২২ দিনেই দেশে এসেছে ২১৭ কোটি (২.১৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩.৪ শতাংশ, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ডলার বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭৫ কোটি ৯০ লাখ (১.৭৫৯ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে অতিরিক্ত এসেছে ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা।

সবশেষ ২২ জুলাই একদিনেই দেশে এসেছে ৭ কোটি ৫০ লাখ (৭৫ মিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স, যার পরিমাণ প্রায় ৯২৩ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার, প্রবাসীদের জন্য দেওয়া নগদ প্রণোদনা এবং বিনিময় হার তুলনামূলক বাজারভিত্তিক হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার, আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (BPM6) পদ্ধতিতে গণনা করা অফিশিয়াল রিজার্ভ ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ধরে রাখতে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে, ইরানের উপর চাপিয়ে দেওয়া আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে কিছুটা সংকুচিত হয়েছে প্রবাসী আয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, 'ইরানের সাথে এই সংঘাত শুরু না হলে রেমিট্যান্স প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেত। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু অফিস বন্ধ হয়েছে। অনেক কর্মী বেকার বসে আছেন। এই অবস্থা না হলে ইতিমধ্যে এই মাসে ৩০০ কোটি হয়ে যেত রেমিট্যান্স।'

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্সই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। প্রবাসী আয় বাড়লে আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে এবং রিজার্ভে স্বস্তি বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন