শুক্রবার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থবছর ২০২৪-২৫: প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯%, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন 

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

চূড়ান্ত হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সাময়িক হিসাবে এ হার ধরা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। হালনাগাদ চূড়ান্ত তথ্যে তা আরও কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ—যা তখন চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। সেই তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমেছে।

আন্দোলন ও অস্থিরতার প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের ধারার মধ্যেই ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলন, অবরোধ, সংঘাত ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার প্রভাব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ১ দশমিক ৯৬ শতাংশে; যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কোভিডের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। মহামারীর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে। সেই হিসেবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিনিয়োগেও ভাটা

চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ কমে যাওয়া প্রবৃদ্ধি হ্রাসের অন্যতম কারণ। মাথাপিছু আয় ২,৭৬৯ ডলার

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৩১ ডলার।

তবে সাময়িক হিসাবে গত মে মাসে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২০ ডলার বলা হলেও চূড়ান্ত হিসাবে তা ৫১ ডলার কমেছে। ফলে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের রেকর্ড এখনও ২০২১-২২ অর্থবছরের ২ হাজার ৭৯৩ ডলারেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, প্রবাসী আয়সহ মোট জাতীয় আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এ হিসাব নির্ধারণ করা হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে আগামী অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি চাপে থাকতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X