শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে আটক, ১১ মাস পর মরদেহ পাঠালো বিএসএফ 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ মাস আগে সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক আজিজুর রহমানকে (৫০) আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি বাংলাদেশে নিজ পরিবারের কাছে ফিরেছেন কিন্তু জীবিত নয়, নিথর দেহে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।

নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেকপোস্ট শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ও তেঁতুলিয়া মডেল থানার কাছে আজিজুরের মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত আজিজুরের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে রাণীশংকৈল সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন আজিজুর। এরপর থেকে তিনি ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, বিএসএফের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ২২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মরদেহ গ্রহণের সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ আজিজুর রহমানের মরদেহ তাঁর জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে বুঝিয়ে দেন।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি সহযোগিতায় এবং দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ মাস পর আজ তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।

নিহত আজিজুরের স্ত্রী ও কন্যারা মরদেহের অপেক্ষায় বাংলাবান্ধা সীমান্তে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। সরকারের সহযোগিতায় প্রিয়জনের শেষ বিদায়ে অন্তত তাঁর মুখটি দেখতে পাওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। তবে বিএসএফের হাতে নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন