বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় প্যারিস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
বিএনপির মিছিলে ফোরাতুন নাহার প্যারিস
expand
বিএনপির মিছিলে ফোরাতুন নাহার প্যারিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত না হলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে জেলা মহিলাদলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিসের নাম।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের একজন শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন। রাজপথের কর্মসূচি থেকে শুরু করে সংগঠন পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা তাকে জেলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ করে তুলেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে আন্দোলনমুখী রাজনীতি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে। দলের কঠিন সময়ে তিনি মাঠে সক্রিয় থেকেছেন এবং নারী নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে একটি চৌধুরী পরিবারে জন্ম ফোরাতুন নাহার প্যারিসের। রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক এবং রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই সন্তানের জননী এই রাজনীতিক পেশায় একজন শিক্ষকও।

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার হাত ধরে তিনি দলে যোগ দেন। পরে মহিলাদলের একটি থানা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

২০১০ সালে জেলা মহিলাদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৭ সাল থেকে জেলা মহিলাদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের চাপ ও জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে—এমন অভিযোগ রয়েছে তার সহকর্মীদের।

২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন। নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন সময় তাকে দল পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি বিএনপির সঙ্গেই থেকেছেন এবং সংগঠনের কাজ চালিয়ে গেছেন।

জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে মাঠে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

ফোরাতুন নাহার প্যারিস বলেন, ‘প্রায় তিন দশক ধরে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, সেটি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলই নেবে। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার নাম আলোচনায় আনছেন এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। নারী নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিতে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকে কাজ করে যেতে চান।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন প্যারিস। তার সাহসী ভূমিকা ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন