

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড়ে মাত্র দুই বছরে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছেন ফাতেমা আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। হাফেজা হওয়ার পর তাকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। পরে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে তাকে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার হাবিবা জান্নাত মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদরাসায় এ সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বকশিপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফাতেমা ওই মাদরাসায় ভর্তি হয়। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজা হয়। অল্প সময়ে তার এ সাফল্যে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা আনন্দিত। এ কারণে তাকে সম্মান জানাতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিশেষ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ফাতেমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে ফুলের মালা পরিয়ে তাকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় হাফেজার বাবা ও মাকেও সংবর্ধিত করা হয়। এরপর একটি সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে বসিয়ে কয়েকটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এদিকে ফাতেমার গ্রামবাসীও তাকে বরণ করে নিতে বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত গেট তৈরি করে। গ্রামের নারীরা ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। পরে তাদের বাড়িতে আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিল।
ফাতেমা আক্তার বলেন, আমাদের মাদরাসার শিক্ষকরা অনেক দক্ষ। তারা আমাদের খুব যত্নসহকারে পড়ান। এজন্যই আমি দুই বছরে কোরআনের হাফেজা হতে পেরেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি বড় হয়ে একজন আলেমা হতে চাই।
ফাতেমার বাবা আব্দুল করিম বলেন, এই মাদরাসার পরিবেশ খুব ভালো। অল্প সময়ের মধ্যে আমার মেয়ে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজা হয়েছে, এজন্য আমরা অনেক খুশি। সবাই যেন তার জন্য দোয়া করেন।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মো. আব্দুস সালাম বলেন, ২০২৩ সালে হাবিবা জান্নাত মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফাতেমা অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় দুই বছরেই কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছে। বর্তমানে মাদরাসায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে আরও চারজন শিক্ষার্থী হেফজ সম্পন্ন করবে।
চাকলাহাট কেপি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ এ আর এম শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসাটিকে ধন্যবাদ জানাই। তারা নারীদের ইসলামিক শিক্ষা দিয়ে হাফেজা হিসেবে তৈরি করছে। আজকের অনুষ্ঠানে ফাতেমা সুন্দরভাবে কোরআন তেলাওয়াত করেছে। আমরা তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করেন এবং কোরআনের আলো গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দেন।
মন্তব্য করুন