বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে দুই মন্ত্রীর মুছাপুর রেগুলেটর পরিদর্শন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
কোম্পানীগঞ্জে দুই মন্ত্রী
expand
কোম্পানীগঞ্জে দুই মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি, শুধু মুছাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনী নয়, আমাদের নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর—পুরো পানি নোয়াখালী হয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে মেঘনা নদীতে যায়।

ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে ছোট ফেনী নদীর ওপর ৯০০ কোটি টাকার 'মুছাপুর রেগুলেটর' নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এসেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা, কোম্পানীগঞ্জে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া শোনা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এই প্রকল্পটি কোনোভাবে না করি, তাহলে প্রতি বছর আমরা সমস্যায় পড়ব, ডোবা-পানিতে বসবাস করব। আমাদের আরও যুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য একটি সুযোগ রয়েছে। এবং এই সুযোগটি আমরা দীর্ঘদিন পরে পেয়েছি। আপনারা আমাদের নির্বাচিত করেছেন, এটি আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। এবং আপনাদের এই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টের পুরোনো রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এবং ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ওই স্থানে নতুন একটি রেগুলেটর নির্মাণের জন্য ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি একনেক পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকেই কাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০০৫ সালে উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙন রোধে ১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মতো ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ওই বছরের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনী অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত 'মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)' প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য নূরুল আলম শিকদার।

পরিদর্শনকালে বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ এবং নদীশাসন এই অঞ্চলের কৃষি ও জানমাল রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও আধুনিক হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন