

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের শার্শায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ইকরামুল কবির (২৬) নামে এক যুবককে হত্যা করে রান্নাঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের এক মাস সাত দিন পর পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় আগে থেকেই শার্শা থানা-এ অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা হয়েছিল। পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের তথ্য সামনে আসে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত ইকরামুল কবিরের সঙ্গে আসামি আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মুন্নি আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাঁগআচড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই চঞ্চল বলেন, “আসামি আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মুন্নির সঙ্গে ইকরামুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মোঃ আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুলকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়। এরপর পরিবারের কাছে বিভিন্ন সময় ১০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শার সেতাই এলাকায় বড় বোনের বাড়ি থেকে ইকরামুলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা শার্শা থানা, বেনাপোল পোর্ট থানা ও ডিবি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও প্রথমদিকে কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ির রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশ গোপনে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
মামলায় আব্দুল কাদের ওরফে কাদের, মুন্নি আক্তার ওরফে মুন্নি, কাকলী আক্তার ও ফজলু ওরফে ফজু মোড়লসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।