

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী দুলাল মিয়া দীর্ঘ ৪৬৭ দিন কারাভোগ শেষে সম্প্রতি মুক্তি পান।
তার কারামুক্তি উপলক্ষে সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়পুর গ্রামে নিজ বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামছুল আলম, মিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোতাব্বির হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
তবে আওয়ামী লীগ নেতার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের এমন উপস্থিতি ভালোভাবে নেননি দলটির ত্যাগী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা এ ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং ‘দলীয় আদর্শের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় না থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামছুল আলম বিভিন্ন অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। এমনকি অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে অবস্থান করার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ‘সমঝোতার রাজনীতি’র অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
তাদের মতে, আওয়ামী লীগের একজন নেতার ব্যক্তিগত আয়োজনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এভাবে উপস্থিত হওয়া দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং ত্যাগী কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মন্তব্য করুন