

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম নির্বাচনি প্রচারণার অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ গিয়াস উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
গত ১৫ জানুয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫ এর মাধ্যমে এ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মোঃ গিয়াস উদ্দিন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন একটি ভিডিও কমিটির নজরে আসে।
ভিডিওটি ‘The Speech’ নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়, যার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার। উক্ত ভিডিওটির মাধ্যমে প্রার্থী আগাম নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। অথচ উক্ত বিধান লঙ্ঘন করে মোঃ গিয়াস উদ্দিন আগাম প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
এ কারণে তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯১খ (২) ও ৯১খ (৩) এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ৩, ১৮ ও ৩০ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমতাবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে আগামীকাল ২০ জানুয়ারি দুপুর ১১টায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজের সভাকক্ষ (কক্ষ নং-২০৩)-এ অবস্থিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি ও জারির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, হবিগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চুনারুঘাট), জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং চুনারুঘাট থানার অফিসার ইন-চার্জ।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. রবিউল হাসান জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন আগাম প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন
