শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
চুয়াডাঙ্গা ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি
expand
চুয়াডাঙ্গা ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি

চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ক্যাম্পাসে নোটিশ টানিয়ে দেয়।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. আলীম উদ্দিন লস্কর, আব্দুর রাজ্জাকসহ একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম, নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি চিঠির ভিত্তিতে তারা গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার তারা রেজিস্ট্রারের কক্ষ, কম্পিউটার সেকশনসহ কয়েকটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলেও পরে তা খুলে দেওয়া হয়। বুধবারও তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে এসেছে বলে দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, 'ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট'-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মরহুম সোলায়মান হক জোয়ার্দার, সেক্রেটারি ছিলেন আব্দুল মোত্তালেব এবং ট্রেজারার ছিলেন মো. আলীম উদ্দিন লস্কর।

তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ড বহাল থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে নতুন নামে আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়, যার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বিধি-বিধান ও ইউজিসির নীতিমালা অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সহকারী রেজিস্ট্রারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতা বিবেচনা না করে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি, বিলুপ্ত ও পদায়নের অভিযোগও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সংরক্ষিত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ভাঙিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুমোদনবিহীন অতিরিক্ত ফি ও বিভিন্ন চার্জ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যাংক হিসাব, আর্থিক নথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষ আরও জানায়, জয়েন্ট স্টকের নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২০ জুন ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মো. আলীম উদ্দিন লস্করকে, সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক এবং ট্রেজারার তানভীর হুদাকে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসন করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে জানিয়েছেন

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন