

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ও চুনতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডলুখালের ওপর ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মিত বেইলি সেতুটি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
লোহাগাড়া ছাড়াও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসাও এটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর লোহার পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন, বিশেষ করে অতিরিক্ত বালুভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে সেতুর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ভারী যানবাহন উঠলেই পুরো সেতুটি কেঁপে ওঠে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ডলুখাল থেকে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিয়ম উপেক্ষা করে বছরের পর বছর বালু লুট চলতে থাকায় এখন সেতুসহ আশপাশের বসতি ও কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ চরম বিপদের মুখে পড়বেন। সেতুটি ভেঙে গেলে লোহাগাড়ার সঙ্গে লামা-আলীকদমের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিকল্প হিসেবে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।
এদিকে, চুনতির বাসিন্দা এমডি বেলালের একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে কঠোর সমালোচনা করেন।
পুটিবিলার বাসিন্দা আসম দিদার বলেন, “রিকশা বা সিএনজিতে উঠলেই সেতু কাঁপে। নিচে বালু তোলার কারণে যেকোনো সময় এটি ভেঙে যেতে পারে।”
চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জানে আলম (জানু) বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বড় দুর্ঘটনার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। আপাতত ঝুঁকি এড়াতে সংস্কারের কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে।”
মন্তব্য করুন