মঙ্গলবার
১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষ, দুই বিজিবির আহত

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
আহত বিজিবি সদস্য
expand
আহত বিজিবি সদস্য

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় চোরাকারবারীদের হামলায় দুইজন বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।

এ সময় বিজিবির প্রতিরোধে এক চোরাকারবারীও আহত হয়। ঘটনাটি সোমবার (৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ রেইক্কাশিয়া পোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ঘটে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ রেইক্কাশিয়া পোস্ট এলাকায় একটি টহলদল চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বার্মিজ গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল চোরাকারবারীদের একটি সংঘবদ্ধ দল।

বিজিবি টহলদল চোরাকারবারীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোঁটা নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ল্যান্স নায়েক মো. রাজু ও সিপাহি মো. শরিফ নামে দুই বিজিবি সদস্য আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মো. ইসমাইল নামে এক চোরাকারবারী আহত হয়।আহত বিজিবি সদস্যদের প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সদর দপ্তরের এমআই রুমে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে আহত চোরাকারবারী মো. ইসমাইলকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইসমাইলসহ ১০ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইসমাইলের বিরুদ্ধে আগেও চোরাচালানের একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাকারবারীদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মিয়ানমার থেকে গরু, মাদক ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালান করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও চক্রটি মাঝে মধ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবির অভিযান জোরদার হওয়ায় চোরাকারবারী চক্রগুলো এখন অনেক সময় সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার মতো দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন