বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বার্ড ফ্লুতে নিঃস্ব খামারি: মারা গেছে ৮ হাজার মুরগি

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ এএম
মারা যাওয়া মুরগি
expand
মারা যাওয়া মুরগি

এক সময় যার খামারে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হতো, আজ সেই খামারই পরিণত হয়েছে নীরব মৃত্যুকূপে। বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৮ হাজার লেয়ার মুরগি।

দুই দশকের গড়া স্বপ্ন এক নিমিষেই ভেঙে পড়েছে খামারি সোহাগ শেখের। ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে তিনি বলছেন, সবাই যদি এভাবে চাপ দেয়, তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না।

প্রায় ২০ বছর ধরে লেয়ার মুরগির খামার পরিচালনা করছেন সোহাগ শেখ। ধীরে ধীরে পুঁজি বাড়িয়ে ৮ হাজার মুরগির একটি বড় খামার গড়ে তোলেন। পরিবারসহ ছয়জন কর্মচারীর জীবিকা নির্ভর করছিল এই খামারের ওপর।

তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগি মারা শুরু করে। প্রথমে সাধারণ রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যায়। বর্তমানে যে তিন হাজার মুরগি ছিল, সেগুলোর অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে প্রায় সবই মারা যায়।

সোহাগ শেখ বলেন, ৮ হাজার মুরগিতে প্রায় কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ ছিল। সব শেষ হয়ে গেছে। মারা যাওয়া মুরগি কেউ কিনতে চায় না। অনেকগুলো নদীতে ফেলতে হয়েছে।

শুধু রোগ নয়, গত কয়েক বছর ধরে ডিমের কম দামের কারণেও লোকসান গুনছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তারপরও ব্যবসা চালিয়ে গেছি এই আশায় যে একদিন ঘুরে দাঁড়াবো। কিন্তু এবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। খামারে ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। প্রত্যেককে মাসে ১৬ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হয়। লোকসানের মধ্যেও নিয়মিত বেতন পরিশোধ করেছেন বলে জানান তিনি। এখন ঘরে দুই বেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে গেছে,

খামারির অভিযোগ , ভালো সময়েই বিভিন্ন দোকানদার ও ঋণদাতারা বাড়িতে এসে লোন দিতে আগ্রহ দেখাতেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারাই দ্বিগুণ টাকা দাবি করছেন। এক লাখ টাকার জায়গায় দুই লাখ লিখছে। সময় চাইলে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। রাস্তায় বের হতেও ভয় লাগে। আমার ছোট একটি বাচ্চা রয়েছে বাচ্চার দিকে তাকিয়েই বেঁচে রয়েছি ।

খামারির স্ত্রী আকালিমা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে টাকা নেই। স্বামীর এই অবস্থা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যারা টাকা পাবে তারা যদি এক বছর সময় দিত, আমরা আস্তে আস্তে শোধ করতে পারতাম।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস জানান, খামারটি পরিদর্শনে যাচ্ছি। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বার্ড ফ্লুর প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত এই খামারি এখন সরকারি সহায়তা ও ঋণ পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন