

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের শার্শায় এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুল আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির নানা অভিযোগ ছিল। তবে সামাজিক মান-সম্মান ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই বিষয়গুলো প্রকাশ করেননি।
অভিযোগ উঠেছে, গত মঙ্গলবার (১৮ মে) অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাড়া বাসায় যান প্রধান শিক্ষক মোমিনুল। সেখানে তিনি ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় ছাত্রীটি চিৎকার করলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই শিক্ষক। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি বাসার মালিককে জানালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একাধিক ছাত্রী একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন। এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় পাঠাই। কিন্তু একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুলের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যদের অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাগআঁচড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি বর্তমানে মানসিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলেও জানান।
সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুক মাওলানা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।