শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১১:১৫ এএম
পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
expand
পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় কার্যত বন্দী হয়ে পড়েছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম, কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে হাঁটুসমান জলাবদ্ধতা। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয় দুটি ও পাশের ঈদগাহ মাঠের মিনার। জমে থাকা পানিতে হাঁস ও মাছ সাঁতার কাটতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আশপাশের ফসলি জমির পানি বিদ্যালয় মাঠ ও বারান্দায় জমে রয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে থাকা একটি কালভার্ট কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। এতে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। পরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের জন্য সেখানে বালু ফেলা হয়। একই সময়ে কালভার্টসংলগ্ন জমির মালিকরাও বসতবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে দুই পাশ ভরাট করে ফেলেন। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় পানি নিষ্কাশনের পথ। এরপর থেকে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন রিতু, রুকাইয়া খাতুন ও মায়া খাতুন, এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রমজান আলী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তারা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম ভিজে যায়। এতে লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূর ইসলাম মণ্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছি, জোঁক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। পানিতে জীবাণু থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, চুলকানি ও এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসল্লীরাও। তারা জানান, প্রতিবছর এই মাঠে দুই ঈদের জামাতে হাজারো মানুষ অংশ নিতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ এই মাঠে আদায় করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, মাঠে পানি জমে থাকায় শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তারা মোবাইল ফোন ও মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন