শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় ১১ দলের গণমিছিল

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্য’র গণমিছিল
expand
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্য’র গণমিছিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচীর বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, “গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এখন জনরায় মেনে নিচ্ছে না। কীভাবে জনরায় বাস্তবায়ন করা লাগে জনগণ সেটি ভালো করেই জানে। সোজা পথে না আসলে জনগণ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”

তিনি বলেন, “আজকের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রীসভা, এমনকি সংসদ সদস্যরা জুলাই বিপ্লবের কারণে নির্বাচিত হয়েছেন। এক দলকে বিদায় করে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসাতে জুলাই বিপ্লব হয়নি।জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এ জন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।

” গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদূর্ভোগ লাঘবের দাবিতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর নিউমার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন এনসিপি খুলনা মহানগরীর সংগঠক আহমদ হামীম রাহাত ও সাইফ নেওয়াজ, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি হারুন অর রমীদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহানগরী সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ মাহমুদী, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, জুলাই যোদ্ধা মো. হুযাইফা।

এ সময় খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খুলনা এনসিপি সংগঠক মাহমুদ হাসান ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. সাকিব প্রমুখ।

পরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর শিববাড়ি মোড়, ময়লাপোতা মোড়, সাতরাস্তা মোড় হয়ে রয়্যাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’—এমন নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতাকর্মীরা গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য ˆবধ হলেও জনগণের ভোটে গণভোট জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি সেটাকে বলে অবৈধ। বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের বিপক্ষে কথা না বললেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিএনপির হওয়ায় তারা জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনার জন্য অবশ্যই সংবিধান লাগবে। কিন্তু সেই সংবিধান মুজিববাদের সংবিধান নয়, শেখ হাসিনার সংবিধান নয় বা বিএনপির মনগড়া সংবিধান নয়। সংবিধান হতে হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। এ জন্যই বিএনপি গণভোট মানে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন