শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে মাটির নিচে ‌‘রহস্যময়’ সুড়ঙ্গ, ভেতরে বিছানা-বালিশ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে একটি বাগানের নিচে ‘গোপন ও রহস্যময়’ একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাইরে থেকে ডালপালা দিয়ে ঢাকা থাকলেও ভেতরে রয়েছে ওঠানামার সিঁড়ি এবং বসবাসের জন্য বিছানা-বালিশের ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এটি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে এই সুড়ঙ্গটি পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সুড়ঙ্গটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ভেতরে ৩-৪ জন অনায়াসে অবস্থান করতে পারতেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি ছিল মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা। রাতের অন্ধকারে এখানে চলত গোপন সভা।

একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুড়ঙ্গের ভেতরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যায় এবং সেখানে সাজানো রয়েছে বিছানা-বালিশ, যা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন সাহা নামের এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেন। নিয়মিত সেখানে বসে মাদক সেবন করতেন বলেও দাবি তাদের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন সাহার স্ত্রী ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তার দাবি, সুড়ঙ্গটি তার স্বামী তৈরি করলেও সেখানে মাদক সেবন হতো কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন।

দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, মাদক সেবনের সুবিধার জন্যই সুড়ঙ্গটি তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মাদক-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন