

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর কালুখালীতে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার মোহনপুরে অবস্থিত শেখ ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এতে চলমান বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশন প্রাঙ্গণে তেলের ড্রাম ও পাত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন শতাধিক কৃষক। কেউ কেউ সকাল থেকে অপেক্ষা করলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে অনেকে কাজ ফেলে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে তীব্র গরম ও লোডশেডিং, অন্যদিকে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ- সব মিলিয়ে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি তেল নিতে কৃষি অফিসারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক মো. ইউনুস আলি বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপর তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তবুও প্রয়োজনমতো তেল মিলছে না। এতে আমাদের কাজের ক্ষতি হচ্ছে।”
আরেক কৃষক মো. হোসেন মন্ডল বলেন, “লম্বা সিরিয়ালের সঙ্গে আবার স্বাক্ষরের ঝামেলা আছে। জমিতে বীজ বুনেছি, কিন্তু সেচ দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় আছি। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হবে।”
কৃষক মো. জিলাল শেখ জানান, “দূর থেকে গাড়িভাড়া করে এসে তেল নিতে হয়। কিন্তু এসে আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।”
এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় তারা সীমিত পরিসরে তেল বিতরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক কৃষকের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তেল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতরণ প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন