

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরহাট থেকে তালতলীর বাঁধঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ দীর্ঘ এক বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। উপজেলার বৃহত্তম এই বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারটির কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ২৫ শতাংশও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই অর্থবছরে উপজেলার ছোটবগী থেকে তালতলী বাঁধঘাট পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ কাজে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ১০৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় এবং বাস্তবায়ন শুরু করে।
কাজটি ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের জুন মাসে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে ওই বছরের নভেম্বর মাসে সড়কের কিছু অংশে মেকাডাম করে ফেলে রাখে। কাজের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। পরে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সড়কটিতে কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি এখন দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। সম্প্রতি দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুই শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে বরিশালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি বশিল উদ্দিন ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকৌশলীদের কোনো অবহেলা নেই। তারা কাজ দ্রুত করার জন্য বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়ে তাগিদ দিচ্ছেন। শুরুর দিকে স্থানীয়ভাবে দেওয়া মেকাডাম কিছুটা খারাপ ছিল, তবে এখন পটুয়াখালী থেকে ভালো মানের মেকাডাম এনে কাজ করা হচ্ছে। তিনি সাম্প্রতিক সরকার পতনের কারণেও কাজে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে বলে দাবি করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা নেই। কাজের ধীরগতির জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শুরুর দিকে তারা নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করেছিল। পরে আমাদের চিঠির প্রেক্ষিতে এখন ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি নিয়ে আমার কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। দুই শিক্ষার্থী আহত হয়ে বরিশালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টিও আমি জানি। নিজেও জেলার সভায় যাওয়ার সময় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা সভায় বারবার উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হবে। অন্যথায় তাদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
মন্তব্য করুন