রবিবার
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে, করানো হয় গর্ভপাত

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
অভিযুক্ত পিতা মো. ইউসুফ
expand
অভিযুক্ত পিতা মো. ইউসুফ

ভোলার দৌলতখানে নিজ কিশোরী কন্যাকে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর মতো এক লোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্ত পিতা মো. ইউসুফকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে দুলারহাট থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত ইউসুফ তার কিশোরী কন্যাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এই পাশবিক নির্যাতনের ফলে কিশোরীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে এবং অপরাধ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাষণ্ড পিতা ভিকটিমকে জোরপূর্বক গর্ভপাত নিরোধক ঔষধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান।

এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-০৪, তারিখ-০৪/০৪/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ভোলা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে দৌলতখান, দুলারহাট থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল দুলারহাট এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ মৃত শিশুটিকে উদ্ধার করেছে এবং ধর্ষণের আলামতসমূহ জব্দ করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ভোলা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সকল আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মামলাটি পুলিশ সুপার নিজে নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন