

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অঙ্কিত বর্মন (৩) নামে এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অঙ্কিতের চাচা-চাচিসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করলে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন অঙ্কিতের আপন চাচি ফুলরানি বর্মন (৪২)।
শুক্রবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফুলরানি বর্মন।
ওসি জানান, স্বীকারোক্তিতে ফুলরানি বর্মন জানিয়েছেন, তার শিশু সন্তানের সঙ্গে ঝগড়া করছিল অঙ্কিত। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার পায়ে ধাক্কা লাগায় অঙ্কিতের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। পরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে অঙ্কিতকে গলা কেটে হত্যা করেন ফুলরানি বর্মন।
হত্যার শিকার অঙ্কিত বর্মন উপজেলার বরান্তর গ্রামের সাগর বর্মনের ছেলে। সাগর ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রী-সন্তানসহ সেখানেই থাকেন। কয়েক দিন আগে দাদির সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল অঙ্কিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত অঙ্কিতের বাবা সাগর বর্মন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রী-সন্তানসহ সেখানেই বসবাস করেন। নাতিকে দেখাশোনা করার জন্য সাগরের মা ছেলের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে অঙ্কিতকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে যান তার দাদি।
গত সোমবার দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলছিল অঙ্কিত। এ সময় তার দাদি পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে তার চাচারাও বাড়ির বাইরে নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দাদি পাশের বাড়ি থেকে ফিরে এসে অঙ্কিতকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাশের বাড়ির সুকুমার বর্মন নামে এক আত্মীয়ের ঘরের ভেতর বিছানার ওপর গলাকাটা অবস্থায় অঙ্কিতকে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—অঙ্কিতের চাচা রাজন চন্দ্র বর্মন (২৮), চাচা লিটন বর্মনের স্ত্রী ফুলরানি বর্মন (৪২), আত্মীয় সুকুমার বর্মন (৫৪) এবং তার স্ত্রী মায়ারানি বর্মন (৪৫)।
জিজ্ঞাসাবাদে ফুলরানি বর্মন হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। অন্যরাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ঘটনার পরদিন অঙ্কিতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ফুলরানি বর্মন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে ওই চারজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন