

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাস্তবে তিনি বেঁচে আছেন, শ্বাস নিচ্ছেন, কথা বলছেন—কিন্তু সরকারি কাগজে তিনি ‘মৃত’। একটি ভুল তথ্যের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার জীবনের শেষ ভরসা—বয়স্ক ভাতার টাকাও। এমনই এক নির্মম ঘটনার শিকার হয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আব্দুল মজিত।
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারের বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন আব্দুল মজিত। কিন্তু দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় সেই ভাতা। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাকে ‘মৃত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জীবিত থেকেও কাগজে ‘মৃত’ হয়ে যাওয়ার এই ভুলের কারণে বর্তমানে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
আব্দুল মজিত বলেন, আগে ভাতার টাকা পাইলে ঔষধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। এখন দেড় বছর ধইরা টাকা পাই না। বুড়া হইছি, ভালো কিছু খাইতে মন চায়। আল্লাহ যদি আবার টাকাডা পাইতাম, একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।
তার ছেলে আবুল বাসার জানান, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তালিকায় তার বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এমনকি বাবাকে জীবিত প্রমাণ করতে অফিসে নিয়ে গেলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি। ঘটনাটি শুধু পরিবার নয়, বিস্মিত করেছে এলাকাবাসীকেও।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, চোখের সামনে জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধন করে যেন তিনি তার প্রাপ্য ভাতা ফিরে পান—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আব্দুল মজিতকে মৃত দেখানো হয়। একই সঙ্গে একটি মৃত্যু সনদও জমা দেওয়া হয়, যেখানে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার মৃত্যুর উল্লেখ ছিল। ফলে তার স্থলে প্রতিস্থাপন ভাতাভোগী হিসেবে একই এলাকার আবুল কালাম বর্তমানে ভাতা পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে দেখেননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তালিকা ও রেজুলেশনের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন কার্যক্রম করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুতই আব্দুল মজিতকে পুনরায় ভাতার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন