

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমার স্বামী নেই। আমার দুই সন্তান এতিম হয়ে হয়ে গেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমার তিন সন্তানদের এতিম করছেন সোহেল ‘তার ফাঁসি চাই’; এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক সিরাজুল ইসলামের হত্যাকারীদের বিচার চাইলেন তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মোস্তফা মনি (২৮)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী নিহত সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর হত্যার ৫ মাস হয়ে গেল। তারপরও পুলিশ তিনজন ছাড়া অন্য আসামিদের ধরতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, যারা আমাকে এ বয়সে বিধবা করছে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার করেন। যাতে কেউ আর কারো এভাবে স্বামী হারানো না লাগে। আর কোনো সন্তানকে যেন এভাবে বাবা হারা না হইতে হয়।’
স্ত্রী জন্নাতুল মোস্তফা মনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী হত্যাকারী সোহেলের বাহিনীরা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাদের হত্যার ভয় দেখায়। আমরা পুরো পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি। আমার স্বামী হত্যাকারী সোহেল গ্রেপ্তার হলেও এ মামলার প্রধান আসামিসহ এখনও অনেক আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
উল্লেখ, গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার চিংডি জোনের চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা এলাকা থেকে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় নিহত সিরাজুল ইসলামের বাবা ওমর আলী চকরিয়া থানায় জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে মামলা করেন।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার সোহেল আহমদ চিরিংগা ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকার ইদ্রিস আহমদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে খোরশেদ আলম, শেখাব উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হোসেনসহ চারটি হত্যা মামলা।
এছাড়াও সোহেল আহমদ চিংড়ি ঘেরে নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য এলাকায় ৩০-৩৫ জনের একটি অস্ত্রধারী দল গঠন করে এলাকায় অবৈধভাবে জমি দখল, হুমকি, মারামারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, সিরাজুল ইসলাম খুনের ঘটনায় জড়িত তিন জনকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন