রবিবার
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সলিমপুরে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন
expand
সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলিমপুরের সিটি আবাসিক গেটসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরাও অংশ নেন।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় জ্বালানি তেল অপসারণ করে গোপনে মজুদ করছিল। এসব তেল পরবর্তীতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গত ২৭ মার্চ থেকে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। সেদিন ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছিল, আর আজ সলিমপুরে প্রায় ২৫ হাজার লিটার উদ্ধার হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়—অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং আজ সিঙ্গাপুর থেকে আরও একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। সেটি আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।

বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মজুদ রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ অতিরিক্ত মজুদ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৪.৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন