

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নে অবস্থিত উত্তরা স্পিনিং মিলের সামনে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের তথ্যমতে, উত্তরা স্পিনিং মিলটি বেশ কিছুদিন ধরে ‘লে-অফ’ অবস্থায় চলছিল। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছিল, মিলটি আবার চালু করা হবে। কিন্তু বুধবার রাতে শ্রমিকদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে মিলটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, দুই মাসের বেতন ও বোনাস বকেয়া রেখেই হঠাৎ করে মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রমিকরা মিলের সামনে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
জানা গেছে, বর্তমানে মিলটির ৫৬৭ জন শ্রমিক ও কর্মচারী তাদের বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করছেন। উত্তরা স্পিনিং মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রমজান মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।
এদিকে রমজান মাসে সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায় এবং ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় মালিকপক্ষ মুঠোফোনে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দেয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেতন ও বোনাস পরিশোধ না করে মিলটি বন্ধ করা মালিকপক্ষের ঠিক হয়নি।মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, রমজান মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।
শ্রমিকদের দাবি, তাদের রক্ত ও ঘামে টিকে থাকা এই কারখানার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।
মন্তব্য করুন