বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় বন্ধ হচ্ছেনা নকল দুধ তৈরি, প্রশাসনের অভিযান চায় স্থানীয়রা

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ভবানীপুর গ্রাম থেকে আটক নিষিদ্ধ জেলি ও সয়াবিন তেল
expand
ভবানীপুর গ্রাম থেকে আটক নিষিদ্ধ জেলি ও সয়াবিন তেল

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা ও চিনি মিশিয়ে নকল দুধ হরহামেশাই তৈরি হয়। রোজা আসলেই দেশের সর্বত্র দুধের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে এ উপজেলার অসাধু ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে নকল দুধ তৈরি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

এদিকে এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। প্রশাসন মাঝে মাঝে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণ। সর্বশেষ বুধবার রাতেও উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ তৈরীর সরঞ্জামাদি ধ্বংস ও জব্দ করে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছে সকল স্তরের মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনার সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদনকারী উপজেলা ভাঙ্গুড়া। এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় ৭৫০টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। উপজেলায় পাঁচটি দুগ্ধ সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্রের ৩০ টির অধিক শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ কম্পানির ২১টি কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া ব্র্যাকের তিনটি, আকিজের দুটি, মিল্ক ভিটার একটি ও বারো আউলিয়ার একটি কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলায় উৎপাদিত দুধের প্রায় ৬৫ শতাংশ এসব প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে।

এছাড়া উপজেলায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিগত দুগ্ধ শীতলকরণ কেন্দ্র রয়েছে। সরকারকে কোন ট্যাক্স ও ভ্যাট না দিয়ে অবৈধভাবে এসব ব্যক্তিগত শীতলকরণ কেন্দ্র চলছে। এমনকি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরে এসব অবৈধ দুগ্ধ শীতলকরণ কেন্দ্রের সঠিক তথ্য পর্যন্ত নেই। এ কেন্দ্রগুলো প্রায় ৩৫ শতাংশ দুধ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেন।

এসব স্থানীয় ব্যবসায়ীর অনেকেই নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা, চিনি, লবণ ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে দুধ তৈরি করেন। বছরের অন্যান্য সময় নকল দুধের উৎপাদন থাকলেও রোজার মাসে এই উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নকল দুধ তৈরি ধারাবাহিকভাবে চললেও প্রশাসনের তেমন অভিযান চোখে পড়ে না। এমনকি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ তৈরীর সরঞ্জামাদি জব্দ হলেও মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। কখনো সংশ্লিষ্ট কাউকে জরিমানা কিংবা শাস্তির আওতায় আনা হয়। তবে সেই জরিমানা কিংবা শাস্তি কম হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ থেকে পিছু হটছে না অপরাধীরা।

এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে আবুল বাশারের বাড়িতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নকল দুধ তৈরীর সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়। এ সময় আবুল বাশারের স্ত্রীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরের মাসে ৩ ডিসেম্বর অষ্টমনীষা এলাকার মিজান আলীকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ বুধবার রাতে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়িতে ৬ ড্রাম জেলি,৫ ব্যারেল সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এতে নুর ইসলামের স্ত্রী খুশি খাতুনকে (৪০) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোমানা আক্তার রোমিও বলেন, উপজেলায় ভেজাল দুধ তৈরির খবর প্রায়ই আসে। অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মূল অপরাধী পালিয়ে যায়। ফলে অন্যদেরকে বেশি জরিমানা বা শাস্তি দেয়া যায় না। ব্যক্তিগত দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের বিষয় তিনি বলেন, এসব শীতলকরণ কেন্দ্র অবৈধ হলেও উর্ধ্বতন দপ্তর থেকে পরিদর্শনের নির্দেশনা নেই। তাই এগুলো দেখা হয় না। এগুলো ভোক্তা অধিকারকে দেখার জন্য বলা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন