

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে একাধিক আলোচনায় যুবরাজ ট্রাম্পকে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি “ঐতিহাসিক সুযোগ” তৈরি করেছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।
তাদের দাবি, মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে ইরানের বর্তমান কঠোরপন্থী সরকার পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। সেই হুমকি দূর করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল সম্ভবত এমন একটি দুর্বল ইরানকে গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারে—যেখানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এত বেশি থাকবে যে দেশটি আর ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হতে পারবে না।
অন্যদিকে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে তা সৌদি আরবের জন্য সরাসরি ও গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে সৌদি ও মার্কিন উভয় সরকারের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ ইরান তখন সৌদি তেল স্থাপনাগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। কখনও তিনি বলেছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে, আবার কখনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। সোমবার তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “শত্রুতা সম্পূর্ণভাবে শেষ করার জন্য ফলপ্রসূ আলোচনা” করেছে। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে যে এমন কোনো আলোচনা চলছে না।
এই যুদ্ধ সৌদি আরবের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য চাপ দিয়েছেন—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
সৌদি সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সংঘাত শুরুর আগেও সৌদি আরব সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করেছে।” তারা আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের প্রধান উদ্বেগ এখন আমাদের জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে প্রতিদিনের হামলা থেকে রক্ষা করা। ইরান কূটনৈতিক সমাধানের বদলে বিপজ্জনক উত্তেজনার পথ বেছে নিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সবার জন্য ক্ষতিকর—বিশেষ করে ইরানের জন্যই।”
মন্তব্য করুন
