

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, পারিবারিক দায়িত্ব—সব মিলিয়ে অনেকেরই নিয়মিত শরীরচর্চা করার সময় বা সুযোগ হয়ে ওঠে না। দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটানো, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে থাকা এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরকে নিষ্ক্রিয় করে তোলে। এর ফলে বাড়তে পারে ওজন, কমে যেতে পারে কর্মশক্তি, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তবে সুখবর হলো সক্রিয় থাকার জন্য সবসময় জিমে যাওয়া বা কঠোর ব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক নয়। দৈনন্দিন জীবনের কিছু সহজ পরিবর্তন এবং ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই আপনি নিজেকে সক্রিয় রাখতে পারেন। এতে শরীর যেমন ভালো থাকবে, তেমনি মনও থাকবে প্রফুল্ল। নিচে এমনই ৭টি কার্যকর উপায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
১. হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন সক্রিয় থাকার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো হাঁটা। এটি এমন একটি শারীরিক কার্যকলাপ, যা করতে বিশেষ কোনো প্রস্তুতি বা খরচের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং পেশিগুলো সচল থাকে।
২. সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস তৈরি করুন আজকাল বেশিরভাগ ভবনেই লিফট বা এসকেলেটর রয়েছে, যা আমাদের চলাচলকে সহজ করে তুলেছে। কিন্তু এই সুবিধা আমাদের শারীরিক পরিশ্রমকে অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তাই যতটা সম্ভব সিঁড়ি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কয়েকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে এটি একটি কার্যকর ব্যায়ামের মতো কাজ করে। এতে পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়, হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং ক্যালোরিও বার্ন হয়। শুরুতে কষ্ট লাগলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হবে এবং আপনি নিজেই এর সুফল অনুভব করবেন।
৩. কাজের ফাঁকে নড়াচড়া করুন অনেকেই অফিসে বা পড়াশোনার সময় দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকেন। এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একটানা বসে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায় এবং পেশিগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই সমস্যা এড়াতে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর একটু নড়াচড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান, কিছুক্ষণ হাঁটুন, অথবা হালকা স্ট্রেচিং করুন। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হবে এবং কাজের মনোযোগও বাড়বে। এমনকি আপনি চাইলে কাজের মাঝে দাঁড়িয়ে কাজ করার ব্যবস্থাও করতে পারেন।
৪. ঘরের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করুন ঘরের কাজকে অনেকেই কষ্টকর মনে করেন, কিন্তু এগুলো আসলে শরীরকে সক্রিয় রাখার একটি চমৎকার উপায়। ঘর পরিষ্কার করা, ঝাড়ু দেওয়া, মুছা, রান্না করা বা কাপড় ধোয়া—এসব কাজের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়া করে।প্রতিদিন কিছু সময় ঘরের কাজে ব্যয় করলে এটি আপনার জন্য হালকা ব্যায়ামের মতো কাজ করবে। পাশাপাশি এতে আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ে এবং মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়।
৫. ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করুন আমরা প্রতিদিন অনেক সময় ফোনে কথা বলেই কাটিয়ে দিই। এই সময়টিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বসে থাকার পরিবর্তে ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করুন। দিনে কয়েকবার এমন করলে অজান্তেই আপনার অনেকটা হাঁটা হয়ে যাবে। এতে শরীর সচল থাকবে এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতিকর প্রভাবও কমে যাবে।
৬. স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দিন অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা। মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাটালে শরীর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং চোখ ও মস্তিষ্কের উপরও চাপ পড়ে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন। অবসর সময়টাতে মোবাইল ব্যবহার না করে হাঁটাহাঁটি করুন, বই পড়ুন বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এতে শরীর যেমন সক্রিয় থাকবে, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে।
৭. শখের কাজের মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখুন সক্রিয় থাকার জন্য শখের কাজ একটি দারুণ উপায়। বাগান করা, নাচ, ঘরের সাজসজ্জা, কিংবা নতুন কিছু শেখা—এসব কাজ শরীরকে নড়াচড়া করায় এবং মনকে প্রফুল্ল রাখে। যে কাজটি করতে আপনার ভালো লাগে, সেটিই নিয়মিত করার চেষ্টা করুন। এতে আপনি একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পাবেন এবং একই সঙ্গে শরীরও সচল থাকবে। শখের কাজের মাধ্যমে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতেও বেশ কার্যকর।
উপরের ৭টি উপায়ের পাশাপাশি আরও কিছু ছোট অভ্যাস আপনাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। যেমন—সকালে একটু আগে ঘুম থেকে ওঠা, দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। এসব বিষয় শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন
