

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে কেউ পাস করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠান দুইটি হলো উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় একজন শিক্ষার্থী। সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।
সরেজমিনে বিদ্যালয় দুইটি ঘুরে দেখা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার কথা ১০০ জন। তবে দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়ের কোথাও কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। আগের বছরগুলোতেও বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল না বলে তারা জানান।
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেন, আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।
অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বিদ্যালয়েরও কোনো সাইনবোর্ড নেই। টিনের চালার একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। টিনের ছাউনি দেওয়া আরেকটি বড় ঘরে দরজা-জানালা ও বেড়া নেই। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় দু’টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই দু’টি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনোই ছিল না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। প্রতিষ্ঠান দু’টিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।