বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে প্রার্থীদের শঙ্কা, মাঠে ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা সদস্য

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বরিশাল
expand
বরিশাল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে পুরো জেলা। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনদিনে তিনবার আবেদন করা সত্ত্বেও বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কার্ড না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বুধবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বরিশাল-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বাইরের আসন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসে অবস্থান নেওয়ায় তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন।

একই দিন বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তিনি নির্বাচনী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলনিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বরিশাল-১ আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোবহান অভিযোগ করেন, একটি দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর কর্মী ও এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন। ভোটের দিন যাতে কেউ ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিতে না পারে, সে জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর অনুরোধ জানান।

এর আগে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থী বিশেষ দলের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাধা এবং হামলার অভিযোগ তুলেছেন। কয়েকটি ঘটনায় হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী ও কর্মীদের

বরিশাল জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিল্যান্স–অবজারভেশন টিম সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে দুইজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জেলায় ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম ও ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে।

সেনাবাহিনী প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সদস্য মোতায়েন করেছে। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম দায়িত্বে রয়েছে। বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন আছেন—এর মধ্যে বরিশাল সদরে পাঁচ প্লাটুন এবং বাকি উপজেলাগুলোতে নয় প্লাটুন। র‌্যাবের ছয়টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’ নদীপথে অবস্থান করছে; এতে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের দেড় শতাধিক সদস্য নিয়োজিত আছেন। নদী এলাকার আটটি ভোটকেন্দ্রে নৌ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। অনেক কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩৩টি। এর মধ্যে— বরিশাল-১: ১২৯টি (সাধারণ ৪৩, গুরুত্বপূর্ণ ৫১, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৫) বরিশাল-২: ১৪০টি (সাধারণ ২৫, গুরুত্বপূর্ণ ৫১, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৬৪) বরিশাল-৩: ১২৬টি (সাধারণ ৩৭, গুরুত্বপূর্ণ ৩৯, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫০) বরিশাল-৪: ১৪৯টি (সাধারণ ৯৮, গুরুত্বপূর্ণ ১৭, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৪) বরিশাল-৫: ১৭৬টি (সাধারণ ৯৩, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭) বরিশাল-৬: ১১৩টি (সাধারণ ৪৬, গুরুত্বপূর্ণ ৩২, অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৫)

এবারের নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের ছয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কঠোর নিরাপত্তা ও পারস্পরিক অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের মধ্যেই আজ বরিশালে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন নিয়ে প্রশাসন আশাবাদী হলেও প্রার্থীদের শঙ্কা ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর সবার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন