

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরে হাম উপসর্গে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫-এ। একই সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ মৃত শিশু আবদুল্লাহ (৮ মাস) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা এটিকে ‘ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৫৭ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ফরিদপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলার শিশুরা রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রমটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে—গ্রামাঞ্চলে এখনো কার্যকর কোনো প্রচারণা বা ক্যাম্পেইনের দেখা মেলেনি।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো সভা বা ক্যাম্পেইনের খবর তারা পাননি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, “পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে প্রতিটি শিশুকে অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। সকল অভিভাবককে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রচারণা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সময়ের স্বল্পতার কারণে এখনো গ্রাম পর্যায়ে ক্যাম্পেইন শুরু হয়নি। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাবেন।”
জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৯টি উপজেলায় ৭৯টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি ওয়ার্ড এবং পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ২,৬৯৩টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
মন্তব্য করুন