শুক্রবার
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে সংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, তিন মাসে ১৩ জনের মৃত্যু

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশু রোগী
expand
যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশু রোগী

যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সংক্রামক রোগের প্রকোপ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ডায়রিয়া, চিকেন পক্স ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে হামে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়লেও এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতাল-এর সংক্রামক ওয়ার্ডের রেজিস্টার থেকে এসব মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সংক্রমণের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই।

সর্বশেষ ৩৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮ জন রোগী সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ২২ জন।

ডায়রিয়ায় ১২ জন, চিকেন পক্সে ৩ জন এবং ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ড ছাড়াও অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মামস রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে।

গত তিন মাসে মৃতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন। চিকেন পক্সে ৫ জন, ডায়রিয়ায় ৭ জন এবং ম্যালেরিয়ায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। চিকিৎসক ও নার্সরা বাড়তি চাপের মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং জনসচেতনতার অভাবই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, নয় মাস বয়স থেকে ‘এমআর’ (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া শুরু হলেও অনেক শিশু এখনো এ টিকার আওতায় আসেনি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বাতাসে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে। অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হাম প্রতিরোধে শিশুকে নির্ধারিত সময় নয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি ডোজ টিকা দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্তদের আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন