

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে ছাড়ার উদ্দেশ্যে জাল টাকা তৈরির একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল কক্সবাজারের রামু উপজেলায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরংলোয়া আমতলিয়া পাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক যুবকের নাম মো. ইমরান (২৩)। তিনি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে জাল টাকা তৈরির কাজ চলছিল বলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য আসে। পরে তথ্য যাচাই-বাছাই করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শুক্রবার দুপুরে বাবুল বড়ুয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ঘরের ভেতর থেকে এক হাজার ও পাঁচশ টাকার জাল নোট মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকেই ইমরানকে আটক করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বাজারে এসব জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে দ্রুত এসব জাল নোট চালানোর উদ্দেশ্যে একটি চক্র কাজ করছিল বলেও ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কিছুদিন আগে ওই বাড়িতে নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে কয়েকজন যুবক ওঠেন। তাদের চলাফেরা ছিল সন্দেহজনক। দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের দরজা বন্ধ থাকত এবং বাইরে থেকে খুব বেশি মানুষের যাতায়াত দেখা যেত না।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আটক যুবকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক যুবকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, ঈদকে ঘিরে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন