

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেকেই আগেভাগে জ্বালানি মজুদ করতে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন। এতে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি পাম্পে একজন গ্রাহককে ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
রাজবাড়ী শহরের মুরগি ফার্ম এলাকায় অবস্থিত কাজী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অকটেন নেই এবং পেট্রোলও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক গাড়িচালক পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শ্রীপুরের পলাশ ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত চাপের কারণে গ্রাহকপ্রতি জ্বালানির পরিমাণ সীমিত রাখা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক রায়হান রহমান বলেন, “পাম্পে এসে শুনছি ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই বেশি করে তেল নিতে আসছেন।”
এক প্রাইভেটকার চালক জানান, পাম্পে এসে তেল না পাওয়ায় তারা দুর্ভোগে পড়ছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পাম্পে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সকাল থেকেই কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক জ্বালানি নিতে আসছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কিছু সময় বিক্রি বন্ধ রাখার পর গ্রাহকপ্রতি সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পলাশ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বিপুল কুমার বৈদ্য বলেন, গত বৃহস্পতিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের পাম্পে সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, রাজবাড়ীর প্রায় ৩১টি সরকারি অফিসের গাড়িতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করতে হয়। বর্তমানে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে, অল্প কিছু অকটেন ও ডিজেল থাকলেও তা বেশিক্ষণ চলবে না।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সরবরাহ না এলে পাম্পগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংকটের কারণে মোটরসাইকেলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং কৃষকদের ক্ষেত্রে ১০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, আতঙ্ক না ছড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন