

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহকে সমাজের অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বাল্যবিবাহ নিবন্ধনে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না; প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্টারের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট সার্কিট হাউজ হলরুমে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নিবন্ধিত মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সুন্দর জীবনের শুরুতেই অন্ধকার নামিয়ে আনে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের ঘটনা ঘটছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা নিবন্ধিত হবে, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, আর সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা বাল্যবিবাহ। এ কারণে বিয়ের আগে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য রেজিস্টারদের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী রেজিস্টারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো প্রকার চাপ বা প্রলোভনে পড়ে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা যাবে না। কোথাও বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে তা প্রতিরোধ করতে হবে।
বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তালাকের প্রবণতা রোধে নিকাহ রেজিস্টারদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করাই নয়, পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে সামাজিক ও নৈতিক সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পারিবারিক কলহ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে তালাকের হার বাড়ছে, যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই দুটি সমস্যা দূর করা গেলে তালাকের হারও অনেকাংশে কমে আসবে।
জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস, নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নিকাহ রেজিস্টার ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন