শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস পালিত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলিয়াপাড়া চা বাগান-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ৪ঠা এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে সেখানে জাঁকজমকপূর্ণ মহাসমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতিবছর ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া দিবস পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল ও সাখাওত হাসান জীবন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো সাধারণ মানুষ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তেলিয়াপাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার। ১৯৭১ সালের এই দিনে এখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং তেলিয়াপাড়ার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে দিনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন