শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একই বিষয়ে পাঁচবার ফেল, আত্মহত্যা করলেন মেডিকেল শিক্ষার্থী

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
অর্পিতা নওশিন
expand
অর্পিতা নওশিন

সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন ছিল তার। মানুষের সেবা করার, পরিবারকে গর্বিত করার, নিজের মতো করে একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নই যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয় এক অদৃশ্য চাপের বোঝায়—যা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল অর্পিতা নওশিনের জীবন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এক নীরব ঘর। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় অর্পিতার নিথর দেহ। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ আর বারবার ব্যর্থতার হতাশা তাকে ঠেলে দিয়েছে এই চরম সিদ্ধান্তে।

অর্পিতা ছিলেন কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। খুলনা থেকে দূরে এসে তিনি শুরু করেছিলেন তাঁর স্বপ্নের পথচলা। পরিবারের ছোট মেয়ে—শান্ত, ভদ্র, স্বল্পভাষী। কিন্তু ভেতরে ছিল দৃঢ় এক মন, যে হার মানতে চাইত না।

প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েও একটি বিষয়—এনাটমিতে থেমে যান তিনি। তারপর শুরু হয় এক দীর্ঘ সংগ্রাম। একবার নয়, দুইবার নয়—টানা পাঁচবার চেষ্টা করেও সেই একটি দেয়াল ভাঙতে পারেননি অর্পিতা। সময় গড়িয়ে যায়, সহপাঠীরা এগিয়ে যায় সামনে, আর তিনি আটকে থাকেন একই জায়গায়। সহপাঠীরা বলেন, ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিলেন অর্পিতা। আগে খুব হাসিখুশি ছিল। কিন্তু পরে একদম চুপচাপ হয়ে যায়। রেজাল্টের সময় এলেই ভয় পেত,—বলছিলেন তাঁর এক বন্ধু।

পরিবারের অভিযোগ, এই মানসিক চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক চাপও। অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, সে বুঝতেই পারত না, কোথায় তার ভুল। একটি বিষয়ে বারবার ফেল দেখানো হয়েছে, কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এতে সে ভেঙে পড়ে।

শেষ দিনের আগের দিনও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। খুব সাধারণ একটি কথা—পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য টাকার প্রয়োজন। সেই সাধারণ কথাটিই হয়ে রইল শেষ স্মৃতি।

অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে শুরু থেকেই এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের পক্ষ থেকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হতো। তিনি বলেন, আমার বোন অন্য সব বিষয়ে পাস করলেও একটি বিষয়ে বারবার ফেল দেখানো হয়েছে। সমস্যা কোথায়, সেটাও পরিষ্কার করা হয়নি। এই মানসিক চাপই তাকে শেষ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগের দিনও বোনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন অর্পিতা। এ বিষয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন ও এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন