বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক, প্রসাব রাখা হয় ফ্রিজে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক
expand
লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে ল্যাবে ব্যবহৃত ফ্রিজে পাওয়া যায় ইউরিনের স্যাম্পল বা প্রসবের নমুনা। পরবর্তীতে ওই ক্লিনিককে ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে ফ্রিজে প্রসবের নমুনা রাখাসহ অন্যান্য অনিয়ম দূর করে অবহিত করতে বলে সিভিল সার্জন। কিন্তু ঘটনার দুই মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও এর উত্তর দেয়নি গত তিন বছর ধরে লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকটি। অভিযুক্ত ক্লিনিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার জারা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।

জানা যায়, গতবছরের ০৬ নভেম্বর সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনে যান একটি দল। এসময় ল্যাবে ব্যবহৃত ফ্রিজে পাওয়া যায় ইউরিনের স্যাম্পল বা প্রসবের নমুনা, যা দেখতে পান তারা। তাৎক্ষণিক তা অপসারণ করে এমন কাজ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়। পরিদর্শনের সময় ২০২২-২৩ সালের পরের তিন বছরের লাইসেন্স দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি তারা।

পরিদর্শনের ০৫ দিন পর ১১ নভেম্বর পরিদর্শনকালে ফ্রিজে প্রসবের নমুনা পাওয়াসহ ০৮টি পৃথক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে তা সংশোধন করে ০৭ দিনের মধ্যে অবগত করার নির্দেশ দেয় সিভিল সার্জন। তবে ২ মাসের অধিক পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন।

পরিদর্শনে গিয়ে ল্যাবে কালার কোড অনুযায়ী বীন ও ক্রাশার না থাকা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্য তালিকা বাংলায় পাওয়া যায়নি। ফ্রিজে ভায়াল থার্মোমিটার পায়নি সিভিল সার্জন। এছাড়াও রেডিওগ্রাফার না থাকা স্বত্বেও এক্স-রে কার্যক্রম চলমান থাকাকে খুবই বিপদজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্যতম মালিক। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সবিহীনভাবে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না সিভিল সার্জন অফিসকে। এছাড়াও ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে কোরিয়া প্রবাসীদের মেডিকেল পরীক্ষায় অনিময়েরও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সিভিল সার্জনের পরিদর্শনে অসংগতি পাওয়ার পর পত্র দিলেও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন ফ্রিজে প্রসবের নমুনা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ফ্রিজে প্রসবের নমুনা রাখার বিষয়টি দুঃখজনক। পরিদর্শনের সময়ই তা অপসারণ করার পাশাপাশি আগামীতেও যাতে এমনটা না করা হয় তার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ পাশাপাশি গত ৩ বছরের লাইসেন্স নবায়ন করতে বলা হয়। অন্য বিষয়ে যে অসংগতি পাওয়া যায়, তা ঠিক করার পাশাপাশি এগুলো অবহিত করার জন্য বলা হলেও এখনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অনিময়ের পরেও অবস্থার পরিবর্তন না হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান সিভিল সার্জন।

গত ৩ বছরের লাইসেন্স না থাকা ও ফ্রিজে প্রসবের নমুনা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ। তিনি জানান, কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা আমাদের এখানে হয়না, সেগুলো রাজশাহীতে পাঠাতে হয়। আবার বিভিন্ন জটিলতায় প্রতিদিন পাঠানো সম্ভব হয়না। তাই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সিভিল সার্জন তা না করতে নির্দেশ দেন পরিদর্শনকালে। এছাড়াও আমাদের কালার কোড অনুযায়ী বীন ও নিডিল ক্রাশার এবং ফ্রিজে ভায়াল থার্মোমিটারও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যে সমিতি রয়েছে সেখান থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা নিরীক্ষার মূল্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাই বাংলায় করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স না পাওয়ায় ক্লিনিকের গত ৩ বছরের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ক্লিনিকের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে করা নির্দেশনার জবাব দেয়া হয়নি জানালেও জারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X