

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, অনানুষ্ঠানিক বা গ্রে-মার্কেট চ্যানেলের মাধ্যমে এখনও হাজার হাজার বিদেশি ব্র্যান্ডের গাড়ি রাশিয়াের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এসব গাড়ির বড় অংশই চীন হয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রপ্তানি করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বাজার ছাড়ার অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।
অনেক গাড়ি চীনে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত হয় অথবা সেখানে পাঠানোর পর পুনরায় রপ্তানি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো-মাইলেজ ইউজড’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন গাড়ি আগে চীনে নিবন্ধন করা হয়, পরে সেটিকে ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা হয়, ফলে নির্মাতার সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না।
বুধবার প্রকাশিত মডার্ন ডিপ্লোমেসি–তে বিশ্লেষক সানা খানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিলাররা প্রথমে গাড়িগুলো চীনে নিবন্ধন করে সেগুলোকে ব্যবহৃত রপ্তানি পণ্য হিসেবে দেখান। এই কৌশলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও রাশিয়ার বাজারে গাড়ি বিক্রি সম্ভব হচ্ছে।
চীনের ভর্তুকিনির্ভর ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ গাড়ির বাজারও এ প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করছে। এতে রপ্তানিকারকেরা অভ্যন্তরীণ বিক্রির পরিসংখ্যান বাড়াতে ও অতিরিক্ত মজুত কমাতে পারছেন, পাশাপাশি রাশিয়ার ডিলাররা উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন গাড়ি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
রুশ বিশ্লেষণ সংস্থা অটোস্ট্যাট–এর নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, চীন হয়ে আসা আমদানি বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর ব্র্যান্ডের গাড়ির একটি বড় অংশ দখল করে আছে।
২০২৫ সালে এ ধরনের দেশগুলোর গাড়ি নির্মাতাদের বিক্রি হওয়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ির প্রায় অর্ধেকই চীনে উৎপাদিত।
২০২২ সাল থেকে এ ধরনের বিদেশি ব্র্যান্ডের ৭ লাখেরও বেশি গাড়ি রাশিয়ায় বিক্রি হয়েছে। জাপানি ব্র্যান্ডের চীনে তৈরি গাড়ি এই খাতে প্রাধান্য পাচ্ছে; গত বছর প্রায় ৩০ হাজার টয়োটা গাড়ি কেনা হয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনে উৎপাদিত।
রাশিয়ার ক্রেতারা এখনো পশ্চিমা ও জাপানি ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেন; বিশেষ করে প্রিমিয়াম মডেলগুলোকে। ডিলাররা জানিয়েছেন— তারা স্তরভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাড়ি সংগ্রহ করছেন, যাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যায়—যেমন মার্সিডেজ বেনজ, বিএমডব্লিও ও টয়োটা ব্যান্ডের ক্ষেত্রে।
চীনে ছাড়ে বিক্রি হওয়া ‘জিরো-মাইলেজ ইউজড’ (এমন নতুন গাড়ি বোঝায়, যা রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে কিন্তু প্রায় অব্যবহৃত) গাড়িগুলো রাশিয়ায় প্রায় নতুন গাড়ির দামে বিক্রি হচ্ছে, যা শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদা ও সীমিত আনুষ্ঠানিক সরবরাহকে প্রতিফলিত করে।
ভলকসওয়াজেন গ্রুপ ও বিএমডব্লিউসহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা জানিয়েছে, তারা রাশিয়ায় রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে এবং চুক্তিভিত্তিক সুরক্ষা ও ডিলার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। তবে জটিল সরবরাহ শৃঙ্খল ও তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতার কারণে বাস্তবায়ন কঠিন রয়ে গেছে।
প্রিমিয়াম জার্মান এসইউভি এখনও সচ্ছল রুশ ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। গত বছর রাশিয়ায় বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং ভলকসওয়াজেন গ্রুপের ব্র্যান্ডের প্রায় ৪৭ হাজার গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজারের বেশি চীনে উৎপাদিত।
এমনকি শুধুমাত্র ইউরোপে উৎপাদিত মডেল—যেমন মার্সিডিজ-বেঞ্জ—চীনের মাধ্যমে রাশিয়ায় পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়।
মন্তব্য করুন

