রবিবার
২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব জামায়াতের

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা
expand
রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা

আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। একই সঙ্গে করপোরেট করহার গড়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনারও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। আর বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।

উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, বড় বাজেটের পরিবর্তে ‘মানসম্মত ব্যয়’ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। দলটির মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সুশাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া অপচয়, দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করা সম্ভব নয়। এ কারণে বড় বাজেট নয়, কার্যকর ও ছোট বাজেটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।

এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, অতিরিক্ত কর আরোপ কর্মসংস্থান কমিয়ে দেয় এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ায়। তাই কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান তিনি। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ‘ভুল পরামর্শ’ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে দলটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বাজেট অতীতে অনেক সময় লুটপাট ও শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন জামায়াতের এই নেতা।

সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার হিসাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের উদ্যোগের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন