

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শপথ গ্রহণ ও বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করেই জাতীয় সংসদে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলীয় সংসদ সদস্যদের, বিশেষ করে যারা প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি, বিল ও বাজেট প্রণয়ন এবং স্থায়ী কমিটির কাজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করে দলটি।
‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, শিক্ষাবিদ এবং সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সংসদীয় কলাকৌশল ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে একটি সৃজনশীল ও গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালনের লক্ষ্যেই এই প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষ হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৮০ শতাংশই এবার নতুন, যাদের আগে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। এই বাস্তবতায় পাঁচটি পৃথক সেশনে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংসদীয় প্রোটোকল, ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত ভূমিকা এবং বিল পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এমনকি ভবিষ্যতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন হলে সেখানে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হতে পারে, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের।
কর্মশালায় সেশনগুলো পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, সাবেক আমলা, নির্বাচন কমিশনের সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রতিটি সেশনে বিশেষজ্ঞরা তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন কৌতূহল ও আইনি জটিলতা নিরসন করেন।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে প্রতিবছরই এ ধরনের একাধিক কর্মশালার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে বাজেট অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংসদ সদস্যরা যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) ও পাবনা–১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে গিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তারা এখান থেকে পেয়েছেন।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) উল্লেখ করেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদে গঠনমূলক সমালোচনা ও আইনি বিতর্কে অংশ নিতে এই কর্মশালা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। জামায়াতের এই উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে দলটি একটি সুসংগঠিত ও তথ্যনির্ভর বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে।
মন্তব্য করুন

